শিরোনাম

১২দিনব্যাপী সুলতান মেলার উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

নড়াইল প্রতিনিধি জাগরণ ডট নিউজ

আপডেট: জানুয়ারী ১৫, ২০২০ ১৫:২৩

image নড়াইলে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ১২ দিনব্যাপী সুলতান মেলা শুরু হচ্ছে। শহরের সুলতান মঞ্চে ১৬ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্তু এ মেলা চলবে।

বুধবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী মাহাবুবুর রশিদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়ারুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটাই মেলার ১২ দিনব্যাপী এই মেলা উদ্বোধন করবেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন। ২৭ জানুয়ারি সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ১২ দিনব্যাপী সুলতান মেলায় বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে থাকছে- শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী ও রচনা প্রতিযোগিতা, লাঠিখেলা, হা-ডু-ডু, ভলিবল, ঘোড়ার গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতা, সাইকেল রেস, দড়ি টানাটানি, ভ্যানগাড়ি দৌড়, গরু দৌড়, চিবুড়ি, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এছাড়া এস সুলতানের জীবন ও কর্মের ওপর প্রতিদিন সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সুলতান মেলায় স্থানীয় প্রায় ৩৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন।

প্রসঙ্গৎ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান। ১৯২৪ সালের ১০ আগষ্ট তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা, পাখির কলকাকলীতে ভরা মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শিল্পী এস এম সুলতান। তার বাবা মোঃ মেছের আলি ও মা মোছাঃ মাজু বিবি।

চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে পিতা-মাতা আদর করে নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন- ‘পাট কাটা’, ‘ধান কাটা’, ‘ধান ঝাড়া’, ‘জলকে চলা’, ‘চর দখল’, ‘গ্রামের খাল’, ‘মৎস শিকার’, ‘গ্রামের দুপুর’, ‘নদী পারাপার’, ‘ধান মাড়াই’, ‘জমি কর্ষণে যাত্রা’, ‘মাছ ধরা’, ‘নদীর ঘাটে’, ‘ধান ভানা’, ‘গুন টানা’, ‘ফসল কাটার ক্ষণে’, ‘শরতের গ্রামীণ জীবন’, ‘শাপলা তোলা’র মত বিখ্যাত সব ছবি।

১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালনী বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পলক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে।

এই চিত্রশিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক পান।

লাল মিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯২৮ সালে রুপগঞ্জ আশ্রম স্কুলে ভর্তির মাধ্যমে। ১৯৩৩ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যয়ের ছেলে শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্কুল পরিদর্শনে আসেন। এ সময় লাল মিয়া তার একটি সুন্দর ছবি আঁকলে তৎকালীন জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়সহ সকলে মুগ্ধ হন। শুরু হয় শিল্পী লালের রং তুলি হাতে নতুন জীবন।

শিল্পী হওয়ার মনোবাসনায় লাল মিয়া পাড়ি জমান কোলকাতার উদ্দেশ্যে। কোলকাতার কাশিপুরে নড়াইলের জমিদার বাড়িতে থেকে জমিদার ছেলে অরুন রায়ের সহযোগিতায় কোলকাতার আর্ট কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করলেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হস্তক্ষেপে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান তিনি। সোহরাওয়ার্দী তার অমায়িক আচরণে মুগ্ধ হয়ে লাল মিয়াকে তার বাসায় থাকার সুযোগ করে দেন। এ সময় শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মা তার নাম রাখেন শেখ মোঃ সুলতান যা আজ এস এম সুলতান নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

১৯৪৩ সালে সুলতান ‘খাকসার আন্দোলন’ নামে একটি সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত রেখেই ১৯৪৪ সালে তিনি ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। কাশ্মীরের পাহাড়ে কিছুদিন একদল উপজাতির সঙ্গে বসবাস করেন। ১৯৪৬ সালে কাশ্মীর থেকে চলে যান সিমলায়। সেখানে তার প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয়। এই প্রদশর্নী তার শিল্পী জীবনের প্রথম স্বীকৃতি।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের লাহোরে ও পরে করাচিতে অবস্থান করেন। এসময় নাগী, চুগতাই, শাকে আলী, শেখ আহম্মেদসহ অনেক পণ্ডিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইউরোপ ও আমেরিকা জয় করে মহান এই শিল্পী ১৯৫৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। কিছুদিন ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রাবাসে অবস্থান করে ফিরে আসেন মাতৃভূমি নড়াইলে।

১৯৫৫ সালে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নন্দনকানন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৬ সালে পলী কবি জসিমউদ্দিনের সাথে কয়েকদিন আবস্থান করেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্তু যশোরের নীলগঞ্জ শ্মশানে মাঝে মাঝে ধ্যান করতেন। ১৯৬০ সালে যশোরের চাঁচড়ার জমিদার বাড়িতে কিছুকাল অবস্থান করেন। ১৯৬৫ সালে সবার অগচরে পূনরায় পশ্চিম পাকিস্তানে গমন করেন।

পরে লাল মিয়াকে ১৯৬৭ সালে নড়াইলের অদুরে এক গ্রামে খুঁজে পাওয়া যায়। যশোরের তৎকলীন জেলা প্রশাসক এনাম আহম্মেদ চৌধুরী তাকে যশোর নিয়ে আসেন। ১৯৬৮ সালে যশোর খুলনা ক্লাবে তার একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। জেলা প্রশাসক এনাম আহম্মেদ চৌধুরীর উদ্যোগে ১৯৬৯ সালের ১০ জুলাই সুলতানের মাছিমদিয়ার বাড়িতে দি ইনস্টিটিউট অফ ফাইন আটর্স উদ্বোধন করেন।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শিল্পী জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে যুদ্ধের ছবি আঁকেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজ শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। সে সময় প্রতিদিন রাতে একটা ঝোলা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে কাটিয়েছেন শহরের বিভিন্ন বাড়িতে। এ সময় তার সঙ্গে থাকতো আড়বাঁশি, আর কয়েকটি পোষা বেজী।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সুলতান কাছ থেকে দেখেছেন এ দেশের মানুষ, প্রকৃতি, মানুষের জীবনাচার। আর নিজের বোধ ও মেধাকে শানিত করেছেন আবেগ, অনুভূতি ও উপলদ্ধির প্রয়াসে।

১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মূলত এই প্রদশর্নীর মাধ্যমে এ দেশের সুশীল সমাজের তার নতুনভাবে পরিচয় ঘটে। বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল শিশুদের নিয়ে। নিজের সঞ্চিত অর্থে শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় চিত্রা নদীর পাড়ে নিজ বাড়িতে শিশুস্বর্গ নির্মাণ কাজে হাত দেন। নির্মাণ করেন ভাসমান শিশুস্বর্গ নামের একটি নৌকা।

শিল্পীর ইচ্ছা ছিল এই নৌকায় করে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতি দেখবেন। শিশুরা প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হবেন। প্রকৃতির ছবি আঁকবেন। কিন্তু তার সেই সাধ পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শিল্পী সুলতান মৃত্যুবরণ করেন।

image
image

রিলেটেড নিউজ


পৌষ উৎসব ও নারী উদ্যোগক্তাদের পণ্য প্রদর্শনী উদ্ভোধন

নগরীর লালখান বাজারস্থ হাই লে‌ভেল রোড শাইনীং আওয়ার স্কুল চত্ত‌রে  আওয়ত পৌষ উৎসব ও বিস্তারিত


গুগল ডুডলে মুনীর চৌধুরী

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর জন্মদিন উপলক্ষে ডুডল প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় সার্চ বিস্তারিত


কষ্টেরা সুখে থাক

প্রিয় কষ্ট, না বলা কষ্ট, না দেখা কষ্টবুকের ভেতরের কষ্ট, চোখের ভেতরের কষ্টমাথা নষ্ট করা কষ্ট, বিস্তারিত


নজরুলের জন্মদিনে গুগলের বিশেষ ডুডল

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রাণপুরুষ, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিস্তারিত


ভাল লেখক হতে চাইলে যে ৭টি টিপস জরুরী

ভাল লেখক হতে চাইলে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতেই হয়। সাবেক আর্টস সম্পাদক এবং কলামিস্ট এবং দ্য বিস্তারিত


বাসনা

বন্ধু তোমার বন্দনায় আমি বাধিত!তোমার শোকে আমি শোকাহত।তোমার আদলে তাই লিখছি আজো টুকরো টুকরো বিস্তারিত


চট্টগ্রামে বোধনের নবীনবরণ ১৭ জানুয়ারি

বোধন আবৃত্তি স্কুলের ৫৩তম আবর্তনের নবীনবরণ আগামীকাল শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিস্তারিত


১২দিনব্যাপী সুলতান মেলার উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

নড়াইলে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ১২ দিনব্যাপী বিস্তারিত


image
image

নামাজের সময়সূচি

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত

এক ক্লিকে বিভাগীয় খবর

আবহাওয়া

ক্যালেন্ডার

March 2017
M T W T F S S

চট্টগ্রাম বন্দরের সিডিউল

বিমান বন্দরের সিডিউল


Cities_image
Cities_image

জোয়ার ভাটা

Cities_image